ওয়েব ডিজাইন

ডোমেইন হোস্টিং কেনার কথা ভাবছেন?

27 views
1 Comment

ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার আগে অনেকেই যেগুলো মনে রাখে না

ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়। আর ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল দেশে হাজার হাজার ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রভাইডার কোম্পানী আছে যারা মাসিক বা বাৎসরিক টাকার বিনিময়ে আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিং সার্ভিস দিয়ে থাকে। এতো প্রভাইডারের মেধ্যে সবাই যে ভালো সাভিস প্রদান করে তা কিন্তু না। অনেক হোস্টিং কোম্পানি তাদের সার্ভিস এমনভাবে দেয় যে মনে হয় মঙ্গলগ্রহে গিয়ে বসবাস করি। আবার কারো কাস্টোমার সার্ভিস এতো ভালো যে মনে হয় হাওয়ায় উড়ছি। তাই হুট করে কারো কাছ থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার আগে আপনাকে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেগুলো খেয়াল না করলে বাঁশ খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ডোমেইন কেনার আগে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

১. কোন ধরনের ওয়েবসাইট করতে চাচ্ছেন সেটা আগে ভালোকরে পরিস্কার করে প্লান করবেন এবং ডোমেইনের নাম নির্ধারণ করুন।

২. সাধারনত ব্যবসা বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের জন্য ডট কম ডোমেইন সবাই পছন্দ করে। তবে অপনার নেটওয়ার্কিং বিজনেস হলে ডট নেট নিতে পারেন, আবার আপনার প্রতিষ্ঠান নন-প্রফিটেবল হলে ডট অর্গ নিতে পারেন। এটা আপনার প্রতিষ্ঠানের গ্যাটেগরির উপর নির্ভব করে।

৩. ডোমেইনটি যত ছোট করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এতে আপনার ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা খুব সহজে মনে রাখতে পারবেন। সুন্দর ওয়েবসাইট নেম একটি ভালো সম্পদ। অনেকে ডোমেইনের শেষে অযথা বিডি যুক্ত করে। খুব দরকার না হলে এটা করবেন না।

৪. ডোমেইনের নাম ইউনিক নেয়ার চেস্টা করতে হবে যেন অন্য বড় কোন ব্রান্ডের সাথে গুলিয়ে না যায়।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের আগে:

১. বাংলাদেশি প্রভাইডারের কাছ থেকে ডোমেইন নেয়া ভালো, কারন আপনি বিদেশি কোম্পানীর চেয়ে ভালো সার্ভিস পাবেন এরকম অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন বাংলাদেশে আছে। তাছাড়া বিদেশি কোম্পানীর কাছে ডোমেইন নিতে আপনাকে ডলারে পেমেন্ট পরিশোধ করতে হবে। যেখানে বাংলাদেশি প্রভাইডারের কাছ থেকে নিলে আপনি টাকায় পেমেন্ট করতে পারবেন।

২. ডোমেইনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী এবং বিদেশী কোম্পনীর কোনো ডিফারেন্স নেই। বিদেশী কোম্পানী আপনাকে যেখান থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দিবে, বালাদেশী কোম্পানীও সেখান থেকেই রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দিবে। সুতরাং এটা নিয়ে বেশি ভাবার কিছু নেই।

৩. বাংলাদেশী প্রভাইডারের কাছে ডোমেইন নিলে একটি কথা তাকে আগে জিজ্ঞাসা করতে হবে, সে কি আপনাকে ডোমেইনের ফুল কন্ট্রোল প্যনেল দিবে? ফুল কন্ট্রোল প্যানেল না দিলে আপনি তার কাছ থেকে ডোমেইন কিনবেন না। কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি চাইলেও আপনার ডোমেইনটি অন্য কোথাও ট্রান্সফার করতে পারবেন না।

৪. ডোমেইনটা হোস্টিং এর সাথে রিলেটেড। তাই হোস্টিং যে কোম্পানী থেকে নিবেন, সেখান থেকেই ডোমেইন নেয়া বেটার। তাতে আপনি ডোমেইন এবং হোস্টিং সার্ভিস একই সাথে পাবেন।

৫. লোভনীয় অফারে ডোমেইন কিনতে হলে আগে ভালে করে অফার সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা নিন। অনেকে স্প্যাম ডোমেইন বিক্রি করে। সাধারনত .com .org .net ডোমেইনের দাম ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মতো। অনেকে আপনাদে ৪০০/৫০০ টাকায় দেওয়ার অফার দিতে পারে। এগুলো থেকে দূরে থাকুন। কারণ এরা স্প্যাম ডোমেইন বিক্রি করে। যে কোনো সময় এই ডোমেইনটি হারিয়ে যেতে পারে।

হোস্টিং কেনার আগে:

ডোমেইন ক্রয় করার পর আপনাকে অবশ্যই হোস্টিং ক্রয় করতে হবে। হোস্টিং ছাড়া আপনি শুধু ডোমেইন দিয়ে কিছুেই করতে পারবেন না। ডোমেইন সার্ভিস সকল কোম্পানী প্রায় একই রকম দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রায় বেশিরভাগ কোম্পানীর হোস্টিং বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন মানের। তাই নিচের বিষয়গুলো আপনাকে অনশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ।

১. বাজেট: ওয়েবসাইট করার আগে সবারই ডোমেইন হোস্টিং এর পেছনে একটা বাজেট করতে হয়। এই সময়ে হোস্টিং এর পেছনে ভালো বাজেট করবেন। আপনি কোন ধরনের সাইট করবেন। সাইটে ডেইলি ভিজিটর সংখ্যা কেমন থাকবে এটার উপর হোস্টিং বাজেট ঠিক করতে হবে। বাজেট ঠিক করার পর, সেইম বাজেটে আপনাকে ভালো মানের হোস্টিং যে কোম্পানী প্রভাইড করবে তার কাছ থেকে নিবেন।

২. হোস্টিং স্পেস: আপনার ওয়েবসাইট করতে কত পরিমান স্পেস প্রয়োজন সেটা ঠিক করে সে অনুযায়ী হোসিং প্যাকেজ কিনুন।

৩. ব্যন্ডউইথ: ব্যান্ডউেইথ ওয়েব সাইটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওয়েবসাইটে যত পরিমান ডাটা বা ফাইল থাকবে এবং যত পরিমান ভিজিটর আসবে তার উপর ব্যন্ডউইথ খরচ হবে। পার ভিজিটর এবং পার পেইজ ভিউ অনুযায়ী ব্যন্ডউইথ খরচ হতে থাকবে। মনে করেন ১ জিবি ব্যন্ডউইথে আপনার সাইটে ১০০০ ভিজিটর আসতে পারবে ।

৪. মানি ব্যক গ্যারান্টি: হোস্টিং এর ক্ষেত্রে মানি ব্যক প্যারান্টি একটি গুরুত্ববহ বিষয়। আনেক কোম্পনীই ৩০ দিন মানি ব্যক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। এটা দেখে নিবেন। সাধারনত মানি ব্যক গ্যারান্টি দেয়া কোম্পানীগুলো সার্ভিস ভালো দিয়ে থাকে।

৫. সাপোর্ট: হোস্টিং এর জন্য সাপোর্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার হোস্টিং এ কোন প্রকার সমস্যা দেখা দিলে তাদের সাপোর্ট আপনাকে নিতে হবে। সাপোর্ট পেতে আপনাকে কয়েকদিন সময় লাগলে আপনি আপনার সাইটের অনেক ভিজিটর হারাতে পারেন।

৬. হোস্টিং এর ধরন: আপনার কাজে কোন ধরনের হোস্টিং প্রয়োজন সে অনুযায়ী অর্ডার করুন।

৭. ফিচারসমূহ: হোস্টিং নেয়ার আগে তাদের প্রদানকৃত ফিচারসমূহ জেনে নিন। আপনার প্রয়োজনের সাথে মিল হলে তখন সেখান থেকে হোস্টিং ক্রয় করুন।

৮. সার্ভার লোড: শেয়াড় হোস্টিং নেয়ার আগে সার্ভার কনফিগারেশন এবং সার্ভার লোড সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। সার্ভার ওভারলোড হলে আপনার সাইট লোড হতে আনেক সময় লাগবে।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনি কখনোই ঠকবেন না। আমার মনে হয় ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে মোটামুটি একটা ধারনা পেয়ে গেছেন।

আপনি যদি বাংলাদেশী প্রভাইডারের কাছ থেকে ডোমেইন হোস্টিং নিতে চান তাহলে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভালো মানের কম্পানি আছে। যেমন odepe.net , sharewebhost.com , eicra.com etc

Tags: ,

Related Articles

No results found.

1 Comment. Leave new

  • আতিকুর রহমান ফরায়েজী
    March 20, 2020 1:50 am

    এটি একটি টেস্ট মন্তব্য

You must be logged in to post a comment.
Menu